কেন্দ্রীভূতকরণের মাত্রা

7.5 কেন্দ্রীভূতকরণের মাত্রা

  1. একটি প্রতিষ্ঠানকে আরও সফল করতে কেন্দ্রীভূতকরণ/বিকেন্দ্রীভূতকরণের মাত্রা কীভাবে পরিবর্তন করা যায়?

নিয়ন্ত্রণের সর্বোত্তম পরিধি নিচের পাঁচটি উপাদান দিয়ে নির্ধারিত হয়:

  1. কাজের প্রকৃতি। কাজ যত জটিল, নিয়ন্ত্রণের পরিধি তত সংকীর্ণ।
  2. কর্মীদের অবস্থান। কর্মস্থলের সংখ্যা যত বেশি, নিয়ন্ত্রণের পরিধি তত সংকীর্ণ।
  3. ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব অর্পণের দক্ষতা। অর্পণের দক্ষতা যত বেশি, নিয়ন্ত্রণের পরিধি তত বিস্তৃত।
  4. কর্মী ও ব্যবস্থাপকের মধ্যে যোগাযোগ এবং মতামতের পরিমাণ। যত বেশি মতামত ও যোগাযোগ প্রয়োজন, নিয়ন্ত্রণের পরিধি তত সংকীর্ণ।
  5. কর্মীদের দক্ষতা ও অনুপ্রেরণার মাত্রা। দক্ষতা ও অনুপ্রেরণা যত বেশি, নিয়ন্ত্রণের পরিধি তত বিস্তৃত।

একটি কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার শেষ উপাদানটি হলো প্রতিষ্ঠানের কোন স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত তা ঠিক করা। কেন্দ্রীভূতকরণ হলো সেই মাত্রা যেখানে আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বা স্তরে কেন্দ্রীভূত থাকে। উচ্চমাত্রায় কেন্দ্রীভূত কাঠামোতে উচ্চস্তর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ মূল সিদ্ধান্ত নেয়। নিম্নস্তরের কর্মীদের অংশগ্রহণ সেখানে খুবই সীমিত থাকে। কেন্দ্রীভূতকরণ উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপকদের কার্যক্রমের ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে এবং কঠোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি দূর করে ব্যয় কমাতেও সহায়ক। তবে কেন্দ্রীভূতকরণের ফলে নিম্নস্তরের কর্মীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ নাও পেতে পারে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের চাহিদায় দ্রুত সাড়া দিতে কম প্রস্তুত হতে পারে।

বিকেন্দ্রীভূতকরণ হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্বকে সাংগঠনিক স্তরবিন্যাসের নিচের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া। এতে নিম্নস্তরের কর্মীদের সিদ্ধান্ত নেওয়া ও বাস্তবায়নে বেশি দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেওয়া হয়। বিকেন্দ্রীভূতকরণের সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুততর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার উচ্চতর মাত্রা, বেশি সাংগঠনিক নমনীয়তা, নিম্নস্তরের ব্যবস্থাপকদের দ্রুত বিকাশ এবং কর্মসন্তুষ্টি ও প্রতিশ্রুতির উচ্চতর মাত্রা। তবে বিকেন্দ্রীভূতকরণও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নিম্নস্তরের কর্মীদের যদি প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ না থাকে, তাহলে তারা ব্যয়বহুল ভুল করতে পারে। এ ছাড়া বিকেন্দ্রীভূতকরণ অকার্যকর যোগাযোগ পথ, পরস্পরবিরোধী উদ্দেশ্য এবং কাজের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

প্রতিষ্ঠানজুড়ে কতটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব অর্পণ করতে হবে তা ঠিক করার সময় বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের আকার, পরিবেশে পরিবর্তনের গতি, ব্যবস্থাপকদের কর্তৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা, কর্মীদের বেশি কর্তৃত্ব নেওয়ার ইচ্ছা এবং প্রতিষ্ঠানটির ভৌগোলিক বিস্তার।

বিকেন্দ্রীভূতকরণ সাধারণত কাম্য হয় যখন নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হয়:

  • প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত বড়, যেমন ExxonMobil, Ford বা General Electric।
  • প্রতিষ্ঠানটি এমন গতিশীল পরিবেশে কাজ করে যেখানে দ্রুত স্থানীয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেমন অনেক উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে।
  • ব্যবস্থাপকরা তাদের অধীনস্থদের সাথে ক্ষমতা ভাগ করে নিতে ইচ্ছুক।
  • কর্মীরা বেশি দায়িত্ব গ্রহণে ইচ্ছুক ও সক্ষম।
  • প্রতিষ্ঠানটি ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত, যেমন Nordstrom, Caterpillar বা Ford।

প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তে ও বদলাতে থাকার সাথে সাথে তারা ক্রমাগত নিজেদের কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করে দেখে যে এটি কোম্পানিকে তার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করছে কি না।

ধারণা যাচাই

  1. কেন্দ্রীভূত প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
  2. বিকেন্দ্রীভূত সংগঠনের সুবিধাগুলো কী কী?
  3. কেন্দ্রীভূতকরণের মাত্রা নির্বাচন করার সময় কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত?