শিক্ষণ ফলাফলের সারসংক্ষেপ

শিক্ষণ ফলাফলের সারসংক্ষেপ

2.1 ব্যবসায়িক নৈতিকতার ধারণা

  1. কোন দর্শন ও ধারণাগুলো ব্যক্তিগত নৈতিক মানদণ্ড গঠন করে?

নৈতিকতা হলো কোনো কিছু সঠিক না ভুল তা বিচার করার নৈতিক মানদণ্ডের একটি সমষ্টি। ব্যক্তিগত নৈতিক মান নির্ধারণে উপযোগবাদী পদ্ধতি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গৃহীত কর্মের পরিণতির উপর নজর দেয়। এই পদ্ধতি অনুযায়ী মানুষের এমনভাবে কাজ করা উচিত যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধিত হয়। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনতা ও সুখের অন্বেষণের মতো কিছু অধিকার রয়েছে। নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আরেকটি পদ্ধতি হলো ন্যায়বিচার, অর্থাৎ স্বীকৃত মানদণ্ড অনুযায়ী যা ন্যায্য।

2.2 প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নৈতিক আচরণকে প্রভাবিত করে

  1. প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নৈতিক ব্যবসায়িক আচরণকে উৎসাহিত করতে পারে?

শীর্ষ ব্যবস্থাপনাকে প্রতিষ্ঠানের নৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তাদের উচিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নেতৃত্ব দেওয়া, নৈতিকতা-প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং একটি আনুষ্ঠানিক আচরণবিধি প্রণয়ন করা।

2.3 সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনা

  1. CSR (কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) কী?

CSR (কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) হলো সামগ্রিকভাবে সমাজের কল্যাণে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ ও দায়িত্ববোধ। এটি শুধু মুনাফা অর্জনের বাইরে যায়। আইন বা ইউনিয়ন চুক্তির প্রয়োজনীয়তার চেয়েও অধিক দায়িত্ব পালনও এর অন্তর্ভুক্ত। কোম্পানিগুলো অবৈধ ও দায়িত্বহীন আচরণ, দায়িত্বহীন কিন্তু আইনসম্মত আচরণ, অথবা আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল আচরণে যুক্ত হতে পারে। সংস্থাগুলোর বেশিরভাগ আইন মেনে চলে এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার চেষ্টা করে।

2.4 স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতি দায়িত্ব

  1. ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতি তাদের সামাজিক দায়িত্ব কীভাবে পূরণ করে?

স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ হলো এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাদের প্রতি ব্যবসায়ের দায়িত্ব রয়েছে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধ। তাদের একটি পরিষ্কার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রদান করা উচিত। প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাদের কাছে ভালো ও নিরাপদ পণ্য এবং সেবা প্রদানের দায়িত্বও বহন করে। প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ জনগণের প্রতি একটি আদর্শ কর্পোরেট নাগরিক হিসেবে দায়বদ্ধ। প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করতে হবে এবং কাজের একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কোম্পানিগুলো কর্পোরেট জনহিতকর কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে নগদ অর্থ প্রদান, পণ্য ও সেবা দান এবং কর্মীদের স্বেচ্ছাসেবী প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা অন্তর্ভুক্ত। সবশেষে, কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের প্রতি দায়বদ্ধ। তাদের কোম্পানির মালিকদের জন্য একটি যুক্তিসংগত মুনাফা অর্জন করা উচিত।

2.5 নৈতিকতা এবং CSR (কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা)-এ প্রবণতাগুলো

  1. নৈতিকতা এবং CSR (কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা)-এর ক্ষেত্রে কী কী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে?

আজকাল কর্পোরেট জনহিতকর কার্যক্রম কেবল যেকোনো সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীকে দান করা থেকে সরে এসে কৌশলগত দান-এর দিকে মনোনিবেশ করছে। এই পদ্ধতিতে জনহিতকর কার্যক্রম কর্পোরেট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। পাশাপাশি, যেসব এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করে সেসব এলাকায় দান কেন্দ্রীভূত করা হয়।

দ্বিতীয় প্রবণতা হলো নিয়োগকর্তা ও কর্মীর মধ্যে একটি নতুন সামাজিক চুক্তির দিকে গড়ে ওঠা। কর্মসংস্থান বজায় রাখার একক দায়িত্ব আর শুধু নিয়োগকর্তার নয়। এখন কর্মীকেও সেই দায়ভার আংশিকভাবে বহন করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানে মূল্য সংযোজনের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

বিশ্ব ক্রমশ একটি বৈশ্বিক সম্প্রদায়ে পরিণত হওয়ায়, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এখন বৈশ্বিক নৈতিকতা ও দায়িত্বের একটি মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রত্যাশিত। বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় রীতিনীতি বুঝতে হবে। তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের সরবরাহকারীরা মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত নয়।