শিক্ষণ ফলাফলের সারসংক্ষেপ
3.1 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈশ্বিক বাণিজ্য
- বৈশ্বিক বাণিজ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মিত্র ও বন্ধু দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নত করে এবং জাতিগুলোের মধ্যে উত্তেজনা কমায়। এটি অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ায় এবং জীবনের মান বাড়ায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের বৃহত্তম আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক। আমরা আমাদের শিল্প উৎপাদনের এক-পঞ্চমাংশ এবং কৃষি ফসলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রপ্তানি করি।
বৈশ্বিক বাণিজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো বাণিজ্যের ভারসাম্য ও লেনদেনের ভারসাম্য। বাণিজ্যের ভারসাম্য হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের রপ্তানি ও আমদানির মূল্যের পার্থক্য। লেনদেনের ভারসাম্য হলো কোনো দেশের অন্য দেশে মোট প্রদান ও অন্য দেশ থেকে মোট প্রাপ্তির পার্থক্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে উভয়ই ঋণাত্মক। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো বিনিময় হার, যা অন্য দেশের মুদ্রার তুলনায় এক দেশের মুদ্রার মূল্য। প্রতিটি মুদ্রার যোগান ও চাহিদার ভিত্তিতে মুদ্রার মান ওঠানামা করে। কখনো কখনো সরকার হস্তক্ষেপ করে নিজ মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটায়।
3.2 দেশগুলো কেন বাণিজ্য করে
- দেশগুলো কেন বাণিজ্য করে?
দেশগুলো বাণিজ্য করে কারণ এতে তারা লাভবান হয়। তুলনামূলক সুবিধার নীতি অনুসারে প্রতিটি দেশের উচিত সেই পণ্য উৎপাদনে বিশেষায়িত হওয়া যা সে সবচেয়ে সহজে ও সস্তায় তৈরি করতে পারে। তারপর সেগুলোর বিনিময়ে অন্য দেশের সস্তায় তৈরি পণ্য আমদানি করা উচিত। এর ফলে প্রতিটি দেশ নিজে সবকিছু তৈরি করলে যা পেত তার চেয়ে কম দামে বেশি পণ্য পাওয়া যায়। মুক্ত বাণিজ্য সরকারি বিধিনিষেধ ছাড়াই দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করে।
3.3 বাণিজ্যে বাধা
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাধাগুলো কী কী?
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের তিনটি প্রধান বাধা হলো প্রাকৃতিক বাধা (যেমন দূরত্ব ও ভাষা), শুল্ক বাধা (আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কর) এবং অশুল্ক বাধা। অশুল্ক বাধার মধ্যে রয়েছে আমদানি কোটা, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, দেশীয় পণ্য ক্রয় বিধিমালা এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ। শুল্কের বিরুদ্ধে প্রধান যুক্তি হলো এগুলো মুক্ত বাণিজ্যকে নিরুৎসাহিত করে এবং তুলনামূলক সুবিধার নীতিকে ঠিকমতো কাজ করতে দেয় না। শুল্কের পক্ষে প্রধান যুক্তি হলো এগুলো দেশীয় কোম্পানি, শিল্প ও শ্রমিকদের রক্ষায় সাহায্য করে।
3.4 বৈশ্বিক বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা
- সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বিশ্ব বাণিজ্য প্রসার ঘটায়?
উরুগুয়ে রাউন্ডের বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক বাধা অনেক কমিয়েছে। প্রথমবারের মতো একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সেবা, মেধাস্বত্ব এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অবকাঠামো গড়তে ঋণ দেয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল যেসব সদস্য দেশ বাজেটের ব্যয় মেটাতে পারে না তাদের ঋণ দেয়। বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদ বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
3.5 আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্প্রদায়
- আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্প্রদায় কী?
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্প্রদায়গুলো নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাধা হ্রাস করে, পাশাপাশি প্রায়ই অ-সদস্য দেশগুলোর প্রতি সাধারণ শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য বাধা আরোপ করে। সবচেয়ে সুপরিচিত অর্থনৈতিক সম্প্রদায়গুলো হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, NAFTA, CAFTA এবং মারকোসুর।
3.6 বৈশ্বিক বাজারে অংশগ্রহণ
- কোম্পানিগুলো কীভাবে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করে?
বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের বেশ কিছু উপায় রয়েছে। প্রধান উপায়গুলো হলো রপ্তানি কার্যক্রম, লাইসেন্সিং, চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ উদ্যোগ এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ।
3.7 বৈশ্বিক বাজারে হুমকি ও সুযোগ
- বৈশ্বিক বাজারে কী কী হুমকি ও সুযোগ বিদ্যমান?
আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রবেশকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেসব দেশে ব্যবসা করার পরিকল্পনা রয়েছে সেসব দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি বিবেচনা করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি বাণিজ্য নীতি শিথিল বা কঠোর হতে পারে, দেশগুলো জাতীয়তাবাদী হতে পারে, আর সরকারও বদলাতে পারে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনেক পণ্য ব্যর্থ হয় কারণ কোম্পানিগুলো যে দেশে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করছে সেই দেশের সংস্কৃতি সঠিকভাবে বোঝে না। কিছু উন্নয়নশীল দেশে অবকাঠামোরও অভাব রয়েছে, যা ব্যবসা চালানো অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।
3.8 বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাব
- বহুজাতিক কোম্পানির সুবিধাগুলো কী কী?
বহুজাতিক কোম্পানির বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, তারা প্রায়ই একাধিক দেশে সদর দপ্তর রেখে বাণিজ্য ও লাইসেন্সিং বাধা এড়াতে পারে। দ্বিতীয়ত, তারা কার্যক্রম এক দেশ থেকে অন্য দেশে সরাতে পারে এবং যেখানে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশি অনুকূল সেখানে ব্যবসা চালাতে পারে। তৃতীয়ত, বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিপুল উৎসে প্রবেশ করতে পারে।
3.9 বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রবণতা
- বৈশ্বিক বাজারে কী কী প্রবণতা রয়েছে?
বেশ কয়েকটি কারণে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়তেই থাকবে। যেসব প্রতিষ্ঠান বড় গ্রাহকভিত্তি চায় বা অতিরিক্ত সম্পদ দরকার, তারা নিজ দেশের বাইরে সুযোগ খুঁজতে থাকবে। চীন ও ভারত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহাশক্তি হিসেবে উঠে আসছে।