শিক্ষণ ফলাফলের সারসংক্ষেপ

শিক্ষণ ফলাফলের সারসংক্ষেপ

6.1 ব্যবস্থাপনার ভূমিকা

  1. ব্যবস্থাপনার ভূমিকা কী?

ব্যবস্থাপনা হলো সাংগঠনিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্পদের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও বরাদ্দ পরিচালনার প্রক্রিয়া। ব্যবস্থাপকরা হলেন সংগঠনের সেই ব্যক্তিরা যারা এই প্রক্রিয়া তৈরি ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেন। ব্যবস্থাপকদের চারটি প্রাথমিক কাজ হলো পরিকল্পনা, সংগঠন, নেতৃত্বদান এবং নিয়ন্ত্রণ। এই চারটি কাজ ব্যবহার করে ব্যবস্থাপকরা তাদের কর্মী, প্রক্রিয়া, প্রকল্প এবং সামগ্রিকভাবে সংগঠনের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ান।

6.2 পরিকল্পনা

  1. পরিকল্পনার চারটি ধরন কী কী?

পরিকল্পনা হলো কী করতে হবে তা ঠিক করা, কখন ও কীভাবে হবে তা চিহ্নিত করা, এবং কে করবে তা নির্ধারণ করা। ব্যবস্থাপকরা চার ধরনের পরিকল্পনা ব্যবহার করেন: কৌশলগত, কার্যকৌশলগত, কার্যপরিচালনামূলক এবং আপদকালীন পরিকল্পনা। কৌশলগত পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি (এক থেকে পাঁচ বছর) ব্যাপক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় এবং সেগুলো পূরণে দরকারি সম্পদ চিহ্নিত করা হয়। কার্যকৌশলগত পরিকল্পনার সময়কাল কম (এক বছরের কম) এবং এতে বৃহত্তর কৌশলগত লক্ষ্যকে সমর্থন করার জন্য আরও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রাখা হয়। কার্যপরিচালনামূলক পরিকল্পনায় প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কার্যকরী ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড, পদ্ধতি, নীতি ও কার্যপদ্ধতি তৈরি করা হয়। আপদকালীন পরিকল্পনায় অত্যন্ত অস্বাভাবিক বা সংকটময় পরিস্থিতির জন্য বিকল্প কর্মপন্থা চিহ্নিত করা হয়।

6.3 সংগঠন

  1. কার্যক্রম সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপকদের প্রাথমিক কার্যাবলি কী কী?

সংগঠন হলো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সমন্বয় ও বরাদ্দ করার প্রক্রিয়া। এতে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যক্তি, পদ, বিভাগ ও কার্যক্রমের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হয়। এটি তিনভাবে হয়: কাজ ভাগ করা (শ্রম বিভাজন), কাজ ও কর্মীদের দলবদ্ধ করা (বিভাগীয়করণ), এবং কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব অর্পণ করা (ক্ষমতা অর্পণ)।

6.4 নেতৃত্বদান, পথনির্দেশনা ও অন্যদের অনুপ্রাণিত করা

  1. নেতৃত্বের ধরন কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে?

নেতৃত্বদান হলো সাংগঠনিক লক্ষ্য অর্জনের দিকে অন্যদের চালিত ও অনুপ্রাণিত করার প্রক্রিয়া। ব্যবস্থাপকদের নেতৃত্বের ধরন স্বৈরতান্ত্রিক থেকে মুক্ত লাগাম পর্যন্ত বিস্তৃত। যে মনোভাব, মূল্যবোধ ও আচরণের মানদণ্ড একটি প্রতিষ্ঠানকে অন্যটি থেকে আলাদা করে, তাকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি বলে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এটি প্রতিষ্ঠানের সঞ্চিত ইতিহাস—প্রতিষ্ঠাতাদের দৃষ্টিভঙ্গিসহ—তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।

6.5 নিয়ন্ত্রণ

  1. প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে?

নিয়ন্ত্রণ হলো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের দিকে অগ্রগতি মূল্যায়নের প্রক্রিয়া। নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ: (১) কর্মসম্পাদন মানদণ্ড (লক্ষ্য) নির্ধারণ করা, (২) কর্মসম্পাদন পরিমাপ করা, (৩) প্রকৃত কর্মসম্পাদনকে প্রতিষ্ঠিত কর্মসম্পাদন মানদণ্ডের সাথে তুলনা করা, (৪) প্রয়োজনে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এবং (৫) ভবিষ্যৎ কর্মসম্পাদন মানদণ্ড নির্ধারণে প্রক্রিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করা।

6.6 ব্যবস্থাপকীয় ভূমিকা

  1. বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিবেশে ব্যবস্থাপকগণ কী কী ভূমিকা পালন করেন?

তথ্যমূলক ভূমিকায় ব্যবস্থাপক একজন তথ্য সংগ্রাহক, তথ্য বিতরণকারী বা কোম্পানির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে পারেন। ব্যবস্থাপকের আন্তব্যক্তিক ভূমিকা অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে বিভিন্ন যোগাযোগের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে একজন ব্যবস্থাপককে প্রতীকী প্রধান, কোম্পানির নেতা বা যোগাযোগসেতু হিসেবে কাজ করতে হতে পারে।

6.7 ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা

  1. ব্যবস্থাপকীয় সাফল্যের জন্য কোন ধরনের ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা প্রয়োজন?

ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা তিনটি মূল শ্রেণিতে পড়ে: কারিগরি, মানবিক সম্পর্ক এবং ধারণাগত দক্ষতা। বিশেষায়িত জ্ঞানের ক্ষেত্র এবং সেই জ্ঞান প্রয়োগের সামর্থ্য মিলে কারিগরি দক্ষতা তৈরি হয়। মানবিক সম্পর্ক দক্ষতায় রয়েছে মানবীয় আচরণ বোঝা, অন্যদের সাথে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করা, এবং ব্যক্তিদের তাদের লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করা। ধারণাগত দক্ষতায় রয়েছে সংগঠনকে সামগ্রিকভাবে দেখা, বিভিন্ন অংশের পারস্পরিক নির্ভরতা বোঝা, এবং সংগঠন তার বাহ্যিক পরিবেশের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত তা যাচাই করা।

6.8 ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের প্রবণতা

  1. ভবিষ্যতে ব্যবস্থাপনাকে কোন কোন প্রবণতা প্রভাবিত করবে?

আজকের ব্যবস্থাপনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হলো: সংকট ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি, তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, এবং বহুজাতিক সংস্কৃতি পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা। সংকট ব্যবস্থাপনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়, পরিস্থিতি সম্পর্কে সত্য বলতে হয়, এবং সমস্যা সমাধানে সেরা ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে হয়। সবশেষে, ব্যবস্থাপনাকে সংকট থেকে শিখতে হবে যাতে তা আবার না ঘটে। ড্যাশবোর্ড সফটওয়্যারের মতো সর্বশেষ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবস্থাপকরা দ্রুত ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যত বেশি কোম্পানি "বৈশ্বিক পরিসরে" যাচ্ছে, তত বহুজাতিক সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতার দরকার বাড়ছে। ব্যবস্থাপকদের ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, সকল কর্মীর ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে, এবং আস্থার সংস্কৃতি গড়তে হবে।